সেলিব্রিটি বার্তা

বলিউডের সুপারস্টার অক্ষয় কুমারের জিরো থেকে হিরো হওয়ার গল্প!!!! 

অক্ষয় কুমার হলেন একজন ভারতীয় বলিউড চলচ্চিত্র অভিনেতা। তার মূল নাম রাজিব হরি ওম ভাটিইয়া। নব্বই এর দশকে তিনি মূলত অ্যাকশন হিরো হিসেবে পরিচিত ছিলেন। ২০০২ সালে তিনি শ্রেষ্ঠ খলনায়ক পুরস্কার পান। তিনি বর্তমানে রম্য চলচ্চিত্রে অভিনয় করে বেশি জনপ্রিয়তা পেয়েছেন 

অক্ষয় বলেন- 
“আমি অমিতাভ নই, দিলীপ কুমার নই, নই কোনো স্টারের সন্তান। আমি স্রেফ অক্ষয় কুমার।” 
 
 

কোনো ধরনের থিয়েটার অভিনয় কিংবা ফিল্মি ব্যাকগ্রাউন্ড ছাড়াই এসেছেন রুপালী জগতে। ১৯৬৭ সালের ৯ সেপ্টেম্বর পাঞ্জাবের অমৃতসরে জন্ম নেন তিনি। পারিবারিক ডাকনাম রাজু। মা অরুনা ভাটিইয়া একজন গৃহিণী। পিতা হরি ওম ভাটিইয়া যিনি সামরিক বাহিনীতে ছিলেন। অক্ষয়ও ছোট বেলা চাইতো বড় হয়ে সামরিক বাহিনী যোগ দিতে। অমৃতসরে জন্ম নিলেও তার বেড়ে উঠা ও শৈশব পার হয় পুরানো দিল্লীতে। অক্ষয় দুই ভাই বোনের মধ্যে বড়। তার বোনের নাম আল্কা ভাটিইয়া  
 
 
 
এরপর তিনি পরিবারসহ মুম্বাইয়ের কোলিবারায় আসেন এখানকার “ডন বস্কো” স্কুলে পড়াশোনা শুরু করেন। তারপর মুম্বাইয়ের গুরু নানক খালসা কলেজে এডমিশন নেন। এক বছর যেতে না যেতেই তার মার্শাল আর্ট শেখার আগ্রহ হয়। বলা যায় ছোট বেলা থেকেই তার স্বপ্ন মার্সাল আর্ট শেখার। তায়কোয়ান্দোতে ব্লাক বেল্ট পাওয়ার পর তিনি আরো মার্শাল আর্ট শিখার জন্য ব্যাংকক এ পাড়ি জমান। অর্থাৎ শিক্ষাগত দিক দিয়ে তিনিও একজন ড্রপ আউট। পরে থাইল্যান্ড এ তিনি মুই থাই শিখার পর অর্থ উপার্জনের জন্য প্রধান ওয়েটার এর কাজ করেন এরপরই ঢাকার পূর্বাণী হোটেলের শেফ এর কাজ করেছিলেন। 
 
 
যখন তিনি মুম্বাই এ ফিরে আসেন, তখন তিনি মার্শাল আর্ট শেখানো শুরু করেন। তার এক ছাত্র, ফটোগ্রাফার, অক্ষয়কে মডেলিং করার জন্য পরামর্শ দেয়, যা তার চলচ্চিত্রে অভিষেকের প্রথম সোপানটি তৈরি করে দেয়। তখনও তাঁকে নায়ক বানানোর কথা কেউ ভাবে নি। মহেশ ভাটের ‘আজ’ সিনেমায় মার্শাল আর্ট ইনস্ট্রাক্টর হিসেবে ছোট্ট একটা চরিত্র দিয়ে বলিউডে অভিষেক হয় তাঁর। নিজের সিনেমায় স্ট্যান্টম্যান ব্যবহার করতে পছন্দ করেন না অক্ষয়, বেশীরভাগ স্ট্যান্ট তাঁর নিজেরই করা। 
 
 
 
এরপর ১৯৯১ সালে প্রথম তিনি বড় পর্দায় আসেন “সৌগন্ধ” ফিল্মের মাধ্যমে। এরপর আব্বাস মাস্তান পরিচালিত “খিলাড়ি” মুভি করে তিনি বলিউডে শক্ত স্থান দখল করে আছেন। “খিলাড়ি” ওই বছরের অন্যতম বিগ হিট ফিল্ম ছিল। পরপর ‘খিলাড়ি‘ নামের মোট আটটি সিনেমায় অভিনয় করেছেন তিনি। সেই থেকে বলিউডে তাঁর আরেক নাম খিলাড়ি বলে সবাই চেনেন। প্রতিবছর গড়ে তিন চারটে সিনেমায় অভিনয় করেন তিনি। কোন সিনেমাতেই চল্লিশ-পঁয়তাল্লিশ দিনের বেশী শুটিং টাইম রাখেন না।  

 
 
 
তার জনপ্রিয় মুভিগুলো হলো – মাল্টিস্টার কমেডি ফিল্ম “আওয়ারা পাগল দিওয়ানা“, হরর ফিল্ম “জানি দুশমন”, “আন্দাজ”, “বেওয়াফা“, “দিওয়ানি হু পাগাল“, “হামকো দিওয়ানা কার গায়ে” মাল্টিস্টার একশন থ্রিলার “খাকি”, 
২০০৭ সালে প্রথম অক্ষয় এক বছরে ব্যাক টু ব্যাক ৫ টি হিট ফিল্ম দিয়ে ইতিহাস গড়েন। মুভিগুলো হল “নমস্তে লন্ডন”, “হেই বেবি“, “ওয়েলকাম“, পার্শ্ব চরিত্রে “ওম শান্তি ওম” এবং প্রিয়দর্শন-অক্ষয় জুটির “ভুল ভুলাইয়া”। ২০০৮ সালে “তাশান“, “সিং ইজ কিং”। ২০১০ সালে “হাউসফুল“, প্রিয়দর্শনের “খাট্টা মিটঠা“, “একশন রিপ্লে“, “তিস মার খান”। ২০১২ সালে “হাউসফুল 2″। ২০১৩ সালে special 26 ২০১৫ সালে “বেবি“, “গাব্বার ইজ ব্যাক” এবং “সিং ইজ ব্লিং“। ২০১৬ সালে “এয়ারলিফট“, “হাউসফুল 3″, “রুস্তম” ইত্যাদি। 
 
 
 
প্রচন্ড রুটিনমাফিকভাবে সাজানো একটা জীবন অক্ষয়ের। সময় মত সব কাজ করতে তিনি পছন্দ করেন। ভোর চারটায় ঘুম থেকে উঠেন তিনি, তখন থেকেই শুরু হয় ব্যায়াম। জিমে ওয়েট লিফটিং তো করেনই পাশাপাশি শরীর ঠিক রাখার জন্যে দৌড়, মার্শাল আর্ট আর বক্সিং এর প্র‍্যাকটিস করেন নিয়মিত। পঞ্চাশে পা দিয়েও  ফিট বডির পেছনের রহস্যটা হশো এই শৃঙখলাবদ্ধ জীবন। খুব শান্তশিষ্ট স্বভাবের হলেও শুটিং চলাকালে সেটের সবাইকে মাতিয়ে রাখেন এই মানুষটি  
 

 

 
২০০১ সালের ১৭ই জানুয়ারি অক্ষয় কুমার ও অভিনেত্রী টুইঙ্কেল খান্না পারিবারিক ভাবে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। অভিনেতা রাজেশ খান্না ও অভিনেত্রী ডিম্পল কাপাডিয়ার মেয়ে টুইঙ্কেল খান্না। টুইংকেল খান্নার সাথে বিয়ে নিয়েও একটি মজার কাহিনী আছে। বিয়ের আগে এ জুটি বাজি রাখেন, সে সময় আমির খান ও টুইংকেল খান্নার আপকামিং ফিল্ম ছিল “মেলা”, ফিল্ম ফ্লপ হলে তারা বিয়ে করবেন নতুবা আরো অপেক্ষা করবেন। মজার ব্যাপার হলো ফিল্মটি ফ্লপ হয় এবং ওই বছরই বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। অক্ষয় কুমারের দুই সন্তান রয়েছে। পুত্র আরাভ ও কন্যা নিতারা 
 
 


 
কানাডার University Of Windsor তাকে ডক্টরেট উপাধিতে সম্মানিত করেন তাকে। 
২০০৯ সালে তিনি ভারতীয় সরকার দ্বারা পদ্মশ্রী সম্মানে ভূষিত হন। ২০০৪ সালে রাজীব গান্ধী পুরষ্কার পান। এছাড়া রুস্তম এয়ারলিফট এর জন্য ২০১৭ সালে জাতীয় পুরষ্কার পান। তিনি জাপানের সবচেয়ে বড় রাষ্ট্রীয় সম্মান “কাটানা” পেয়েছেন। ২০০৯ সালে তিনি সিং ইজ কিং এর জন্য বেস্ট স্ক্রিন এওয়ার্ড পান। মোট ৬ টি স্টারডাস্ট এওয়ার্ড, ৩ টি IIFA এওয়ার্ড লাভ করেছেন তিনি। কানাডার University Of Windsor তাকে ডক্টরেট উপাধিতে সম্মানিত করেন।
 
 
 
তারকালয়/১৯/০২/১৯/রুপা 

 

Previous ArticleNext Article