সেলিব্রিটি বার্তা

বলিউডের মায়াবী চোখের সর্বকালের সুন্দরী নায়িকা প্রয়াত শ্রীদেবীর জীবন কাহিনী!!!! 

১৯৭৮ সালে বলিউডে অভিষেক হয়েছিল মায়াবী চোখ আর মিষ্টি হাসির নায়িকা  শ্রীদেবীর। চার বছর বয়স থেকে অভিনয় শুরু করেছিলেন শ্রীদেবী। হিন্দিতেই নয়, বরং তামিল, মালয়ালম, তেলেগু, কন্নর সহভারতীয় নানা ভাষার সিনেমায় অভিনয় করেছেন তিনি। তিনি হিন্দি চলচ্চিত্রে প্রথম নারী সুপারস্টার বিবেচিত হন।

 

শ্রী আম্মা ইয়াঙ্গের আয়্যাপান যাকে আমরা শ্রীদেবী নামে চিনেছি। তিনি ১৯৬৩ সালের ১৩ আগস্ট তামিলনাড়ুতে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা ছিলেন একজন আইনজীবী। তার এক বোন ও দুই সৎ ভাই আছে। তিনি চার বছর বয়সে ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে আসেন। শিশু চরিত্রে তিনি বেশ কয়েকটি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন। তখন থেকেই তিনি জনপ্রিয়তা পান। অভিনয়ে জগতে প্রবেশের ফলে তার সেই ছোটবেলায় পড়াশোনায় ইতি টানতে হয়। যার ফলে সে স্কুল কলেজ কোনোটাতে আঘাতে পারেন নি। তবে তার এই ব্যর্থতা তাকে সাফল্য আটকাতে পারেননি তিনি সর্বকালের সেরা অভিনেত্রী হিসেবে পরিচিত হয়েছেন।

 


১৯৭৯ সালে সোলভাসাওয়ান চলচ্চিত্র দিয়ে শ্রীদেবীর হিন্দি চলচ্চিত্রে অভিষেক হয়। চার বছর পর তিনি জিতেন্দ্রর বিপরীতে হিম্মতওয়ালা চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন চলচ্চিত্রটি অন্যতম সেরা ব্লকবাস্টার চলচ্চিত্র হয়ে ওঠে। হিম্মতওয়ালা চলচ্চিত্রের “ন্যায়নোঁ মেঁসাপনা” গানটি জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। এই চলচ্চিত্রের সাফল্যের ফলে শ্রীদেবী বলিউডে প্রতিষ্ঠিত শিল্পীর মর্যাদা লাভ করেন এবং তার বিখ্যাত “থান্ডারথাইস” উপনাম অর্জন করেন। ১৯৮৩ সালে সাদমা চলচ্চিত্রটি দিয়ে শ্রীদেবী সমালোচকদের প্রশংসা অর্জন করেন। পরের বছর তার অভিনীত তোহফা মুক্তি পায় এবং ১৯৮৪ সালের অন্যতম হিট চলচ্চিত্রের তকমা লাভ করে। এই চলচ্চিত্র দিয়ে তিনি বলিউডের অন্যতম সেরা প্রধান চরিত্রে অভিনেত্রী হিসেবে প্রতিষ্ঠা লাভ করেন।ফিল্মফেয়ার ম্যাগাজিন তাকে তাদের প্রচ্ছদে “প্রশ্নাতীতভাবে ১ নম্বর” বলে অভিহিত করে।



 

১৯৮৬ সালে শ্রীদেবীকে সর্প বিষয়ক কাল্পনিক চলচ্চিত্র নাগিনায় অভিনয় করতে দেখা যায়। এতে তিনি “ইচ্ছাধারীনাগিন” চরিত্রে অভিনয় করেন, যে সাপ থেকে নারীতে পরিণত হতে পারে। এটি ছিল সে বছরের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ আয়কারী চলচ্চিত্র এবং বক্স অফিস ইন্ডিয়া তাকে “অবিসংবাদিত এক নম্বর” বলে অভিহিত করে। ইয়াহুছবিটিকে অন্যতম সেরা সর্প বিষয়ক কাল্পনিক চলচ্চিত্র বলে উল্লেখ করে। দ্য টাইমস অব ইন্ডিয়ার “শীর্ষ ১০ সর্প বিষয়ক হিন্দি চলচ্চিত্র” তালিকায়নাগিনা ছবিটি অন্তর্ভুক্ত হয়। শ্রীদেবীর “মেঁতেরি দুশমন” গানের নৃত্য বলিউডের অন্যতম সেরা সর্প নৃত্য বলে উল্লেখ করে দেশিহিট্‌স লিখে, “এটি শ্রীদেবীর অন্যতম সেরা প্রতীকী নৃত্য, যা এখনো ভক্তদের গায়ের লোমদাঁড় করিয়ে দেয়।

 

 

নাগিনা ছবির সাফল্যের পর ১৯৮৭ সালে শ্রীদেবী মিস্টার ইন্ডিয়া চলচ্চিত্রে অপরাধ তদন্তকারী সাংবাদিক চরিত্রে অভিনয় করেন তার বিপরীতে ছিলেন অনিল কাপুর। এটি সর্বোচ্চ আয়কারি চলচ্চিত্র ছিল। রেডিফ ছবিটিকে সেই সময়ের অন্যতম আইকনিক চলচ্চিত্র বলে অভিহিত করে। এছাড়াও শ্রীদেবীর উল্লেখ্য যোগ্য জনপ্রিয় চলচ্চিত্র সমূহ হলো চালবাজচান্দনীলামহে, জুদাই ইত্যাদি। এছাড়াও প্রায় কয়েক বছর পর তিনি বেশ কয়েকটি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন। ২০১২ সালে ইংলিশ ভিংলিশ চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন। ২০১৭ সালে তার অভিনীত সর্বশেষ চলচ্চিত্র ছিল মোম(Mom) যেখানে তিনি একজন মায়ের চরিত্রে অভিনয় করেন। যা বেশ জনপ্রিয়তা পায়।


 


১৯৯৬ সালে তিনি চলচ্চিত্র প্রযোজক বনিকাপুরকে বিয়ে করেন। তাদের দুই মেয়ে জানভি এবং খুশি। অনেক সূত্রে জানা যায় যে, শ্রীদেবী’র সাথে অভিনেতা মিঠুন চক্রবর্তীর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। ১৯৮৬ থেকে ১৯৮৭ সালের মধ্যে এ সম্পর্ক বজায় ছিল যা শ্রীদেবী পরবর্তীতে সম্পর্ক ছেদ করেন। এর প্রধান কারণ ছিল বনিকাপুরের সাথে মেলামেশা যা মিঠুন চক্রবর্তী মেনে নিতে পারেনি। তাঁরা অত্যন্ত গোপনে বিয়ে করেছিলেন বলে জানা যায়, যদিও তা পরবর্তীতে অস্বীকার করা হয়

 


বিনোদন শিল্পে তার অবদানের জন্য ২০১৩ সালে ভারত সরকার তাকে দেশটির চতুর্থ সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা পদ্মশ্রী পদকে ভূষিত করে।এছাড়া তিনি তামিলনাড়ু, অন্ধ্র প্রদেশ ও কেরালা রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে সম্মানসূচক পুরস্কার লাভ করেন।ভারতীয় চলচ্চিত্রের শতবর্ষপূর্তি উপলক্ষ্যে ২০১৩ সালে সিএনএন-আইবিএনের এক জরিপে তিনি ‘১০০ বছরে ভারতের সেরা অভিনেত্রী’ হিসেবে নির্বাচিত হন।



তিনি ২০১৮ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি দুবাইয়ের জুমেইরাহ এমিরেটস টাওয়ারের বাথরুমের বাথটাবের পানিতে দম আটকে মৃত্যু হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি ছিল শুধুই একটি দুর্ঘটনা।


তারকালয়/১৩/০৩/১৯/রুপা

 

Previous ArticleNext Article