সেলিব্রিটি বার্তা

যেভাবে আলোচনায় আসলেন নায়লা নাঈম!!!

শোবিজ অঙ্গনের আলোচিত মুখ নায়লা নাঈম। মডেলিং ও অভিনয় দিয়ে নানা সময়ে রয়েছেন আলোচনায়।জেনে নেয়া যাক তার সম্পর্কে কিছু তথ্য। নায়লা নাইমের জন্ম: ডিসেম্বর ১৪, ১৯৮৬। তিনি বাংলাদেশের বরিশাল জেলায় জন্মগ্রহণ করেন।তার ছেলেবেলা কাটে ঢাকার বিভাগের মাদারীপুর জেলায়। তিনি ২০১২ সালে ঢাকার একটি বেসরকারি ডেন্টাল কলেজ থেকে স্নাতক এবং পরবর্তীতে নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গণ স্বাস্থ্য বিষয়ে স্নাতক করেন। প্রোডাক্ট মডেলিং থেকে শুরু করে সিনেমায় আইটেম ডান্স ও বিজ্ঞাপনের মডেলে দেখা মিলছে তার। অথচ শোনা যায়, আজকের এই রূপসী সুপারস্টার নাকি একসময় সাজগোজ দূরে থাক, লিপ্সটিকও ব্যবহার করতেন না।

কী করে প্রচারের আলোয় এলেন নায়লা? ২০১৪ সালের ৭ জানুয়ারি নায়লা নাঈম জনপ্রিয় সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং সাইট ফেসবুকে ‘ফ্যান পেজ’ খোলেন। প্রথম পোস্টে নিজের একটি ছবি আপলোডের ১৬ ঘণ্টার মধ্যেই নায়লা হিট! পেজের মেম্বার গিয়ে দাঁড়ায় ২৩ হাজার। মাত্র এক বছরে সেই পেজের মেম্বার তিন লাখ পেরোয়। তাঁর ফলোয়ার্স এখন প্রায় ৯০ লাখ। শেষমেশ ফেসবুক কর্তৃপক্ষ তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করে পেজটি ‘ভেরিফায়েড’ করে দেয়।যেভাবে প্রচারের আলোয় এলেন নায়লা নাঈম?এখন নায়লা নাঈমের এক একটি ছবিতে গড়ে ৩০ হাজার করে লাইক পড়ে। কিন্তু কীভাবে মডেলিংয়ের রূপালি জগতে এলেন নায়লা, সেটা জানেন কি? এই সেদিনও নায়লা মেকআপ দূরে থাক, ঠোঁটে লিপস্টিক পর্যন্ত নাকি দিতেন না। বন্ধুরা বলত, ‘আনস্মার্ট’। বছর পাঁচেক আগের কথা। ‘মিরর’ ম্যাগাজিনের গ্রুমিং সেশনের একটি বিজ্ঞাপনে চোখ যায় নায়লার। গ্রুমিংয়ের জন্য ফটোশুটের অ্যাপ্লিকেশন চাওয়া হয় বিজ্ঞাপনটিতে।

সে সময় একেবারে আনকোরা নায়লা কৌতূহলবশত নিজের কয়েকটি ফটো জমা দেন। তাকে অবাক করে দিয়ে সেখানে তার ডাক পড়ে। প্রাথমিকভাবে ৩০০ জনকে ডাকা হয়। নায়লা নাঈম তাদের মধ্যে একজন। এরপর র‌্যাম্পে হাঁটার পর ৫০ জনকে বাছাই করা হয়। সেখানেও নায়লা নির্বাচিত হন। চূড়ান্ত ৩০ জনের মধ্যেও নায়লা থেকে যান। কিন্তু ছোট্ট একটি দুর্ঘটনা নায়লার স্বপ্নকে থামিয়ে দেয়। তার ফোন হারিয়ে যায়! সেই ফোনে যাবতীয় নম্বর ও তথ্য ছিল। সব হারিয়ে নায়লা নিজেকে প্রায় আড়াল করে ফেলেন।কিন্তু ভাগ্য প্রসন্ন! মাস চারেক পরের ঘটনা, একদিন দেখা হয়ে যায় সেই পুরনো গ্রুমিং মডেল মেন্টরের সঙ্গে। তিনি নায়লাকে ফের কয়েকটি ছবি তুলতে বলেন। যেতে পরামর্শ দেন ফটোগ্রাফার রফিকের কাছে। ফটোগ্রাফার রফিক নায়লাকে দেখেই বুঝে ফেলেন এর দ্বারাই হবে। রফিক নায়লার বেশ কিছু সাহসী ছবি তোলেন। নায়লা সেই ছবি জমা দেন ‘প্যান্টিন ইউ গট দ্য লুক’-এ। আর তাঁকে ফিরে তাকাতে হয়নি।

সেখানে তিনি শীর্ষ বাছাইয়ের তালিকায় পাঁচে ছিলেন। এতদিন নায়লা সাহসী ছবি তুললেও সেগুলো ছিল সোশ্যাল মিডিয়ার বাইরে। ফেসবুকে জয়েন করার পর ২০১৪ সালের গুগল সার্চে শীর্ষ বাংলাদেশি তারকা নির্বাচিত হন। এরপর আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। ফেসবুকে এখন (আগস্ট, ২০১৫) তার প্রায় ৬ লক্ষ ফ্যান। র‌্যাম্প মডেলিংয়ের পাশাপাশি তিনি এখন বিজ্ঞাপন চিত্র ও চলচ্চিত্রে অভিনয় করছেন। নাইলা-নাইম এর উচ্চতা ওজন এবং শরীরের পরিমাপ: উচ্চতা: 5 ফুট 5 ইঞ্চি ওজন: 55 কেজি।প্রাথমিকভাবে শোবিজ জগতের একজন র‌্যাম্প মডেল হিসেবে তার বিনোদন কর্মজীবনের শুরু। ২০০৯ সালে গ্রামীণফোনের একটি বিজ্ঞাপনচিত্রে মডেল হিসেবে কাজ করার মাধ্যমে অলোচনায় আসেন। একজন ফ্যাশন মডেল হিসেবে, পাশাপাশি একাধিক ব্র্যান্ডের টেলিভিশন বিঙাপনে কাজ করেছেন তিনি।এছাড়া তিনি দেশী-বিদেশী বিভিন্ন পোষাক পণ্যের মডেল হয়েছেন।শোবিজ জগতে আসার কিছুদিনের মধ্যে তিনি জনপ্রিয়তা আর্জন করেন।পরবর্তিতে তিনি টেলিভিশন নাটকে অভিনয় শুরু করেন। এরপর ভাইকিংস সঙ্গীতদলের তন্ময় তানসেন পরিচালিত রান আউট চলচ্চিত্রে একটি আইটেম গানে অংশ নেয়ার মধ্য দিয়ে বাংলা চলচ্চিত্রে তার অভিষেক ঘটে। পরবর্তীতে তিনি কাজী হায়াত পরিচালিত মারুফ টাকা ধরে না চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন।

কর্মজীবনে বিভিন্ন সময় পোশাক রপ্তানীকারক প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন কাজের জন্যে এবং ভার্চুয়াল জগতে খোলামেলা বেশ কিছু স্থিরচিত্র প্রকাশের কারণে তিনি আলোচনায় আসেন।বিভিন্ন সময় সমালোচনার প্রেক্ষিতে তিনি সামাজিক যোগাযোগ এ ফেসবুকে লিখেছেন, “আমি পর্নো স্টার নই”।

 

Tarokaloy/26 February/Shaila

 

Previous ArticleNext Article